শিরোনাম

আমলের শো-অফ যতদিন, ফুটা কলসিতে পানি ভরা ততদিন

 

আমলের শো-অফ যতদিন, ফুটা কলসিতে পানি ভরা ততদিন। একদিক দিয়ে ভরব আরেক দিক দিয়ে শেষ! আমি অমুক আমল করি, তমুক ভাল কাজ করতে গিয়ে এটা হলো, সেটা হলো! গল্পশেষে হাইলাইট হয়, আমি আমলদার/দ্বীনদার। আবার সেই মুখেই বলি সাথে সাথে, আমার এত আমল নাই/নগন্য হ্যানত্যান! এটাকেই বোধহয় ব্যালেন্স করা বলে!

অনেকেই আমরা আবার বলি, উৎসাহ দানে নাকি করা হয়! বুঝলাম, কিন্তু কয়দিন? আমি কয় ওয়াক্ত নামাজ পড়ি, কি কি যিকির করি, কোন কোন উপকার করলাম মানুষের, কে কি চাও সব দিব এমন ভাব (দানশীল), কথায় কথায় আত্বপ্রশংসা নানা ভঙ্গিতে। শান্তি এখন (নফসের)? আমরাই আবার অন্যের দ্বীন মাপতে যাই, বেদ্বীন/দ্বীনহীন বলে আখ্যায়িত করি ব্যক্তিগত পছন্দ অপছন্দের উপর ভিত্তি করে! সুবহানআল্লাহ!

আমরা ফেসবুকে এত আমল দেখাই, আমরাই আবার গীবত করি, মানুষের ক্ষতি করি, চোগলখোরি করি, উপকার করে খোটা দেই, সারাদিন অন্যের দোষ ধরতে থাকি! নিজের এসব গুনাহগুলো কি ফেসবুকে লিখি? কারও কোন গুনাহ পেলে প্রকাশ না করা পর্যন্ত শান্তি হয়না। আহারে কি অবস্থা আমাদের! আমরা যেন নির্ভুল, নিস্পাপ!

আল্লাহ যদি সেদিন বলেন, লোক দেখানো দ্বীনদার হতে চেয়েছিলে, যাতে মানুষ তোমায় সম্মান দেয়, দ্বীনদার ভাবে, এবং তা পেয়ে গেছো। এখন জাহান্নামে চলে যাও, আর কোন আমল বাকি নেই জান্নাতে যাওয়ার জন্য, তখন কি হবে? নাকি আমরা নিশ্চিন্ত হয়ে গেলাম যে বিনা হিসাবে জান্নাতে চলে যাব?

লেখক-
নাজনীন আক্তার আয়াতুল্লাহ

নিউজটি শেয়ার করুন :